কলার যেসব উপকারি গুন থাকে জেনে নিন

কলার যেসব উপকারি গুন থাকে জেনে নিন
Wikimedia Commons

কলা এমন একটি ফল যা শরীরে দ্রুত শক্তি যোগান দিয়ে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বাজারে পাওয়া উল্লেখযোগ্য ফলগুলোর মধ্যে এটি একটি। আসুন জেনে নিই কলার উপকারিতা।

কলায় কার্বোহাইড্রেট, চর্বি, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের সংমিশ্রণ রয়েছে। এতে ভিটামিন এ, বি এবং কিছু ভিটামিন-সি রয়েছে। একটি কলা প্রায় ১০০ক্যালোরি সরবরাহ করে।

কলাতে সহজে হজমযোগ্য কার্বোহাইড্রেট থাকে। কলা হজমেও সাহায্য করে। পাকা নরম কলা অ্যাসিডিটি সারাতে সক্ষম। অ্যাসিডিটির কারণে বুক জ্বালাপোড়া কমাতেও কলা সহায়ক। কলা কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায়ও উপকারী কারণ এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

একনজরে দেখে নেয়া যাক কলার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা :

* কলায় ক্যালরি বেশি থাকে। তাই মাত্র একটি কলা খেলে শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি পাওয়া যায়।

* অতিরিক্ত জ্বর বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া শরীরকে দুর্বল করে দেয়। এ সময় কলা খেলে শরীরে শক্তি আসবে এবং দুর্বলতা দূর হবে তাড়াতাড়ি।
* কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ। তাই হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য কলা একটি উপকারী ফল।
*কলা অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ কলা হজমে সাহায্য করে এবং পেট ফাঁপা সমস্যা সমাধান করে। কলা পাকস্থলীতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধেও সাহায্য করে।
* কলায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে। তাই যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে তাদের জন্য কলা খুবই উপকারী একটি ফল।
* যারা নিয়মিত বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যায় ভোগেন তাদের প্রতিদিন ভরা পেটে একটি করে কলা খাওয়া উচিত। কলা অম্বল কমায় এবং ক্ষতিকর পাকস্থলীর অ্যাসিড প্রতিরোধ করে।
* একটি কলার খোসা প্রায় দুই মিনিট দাঁতে ঘষলে দাঁতের ময়লা ও দাগ দূর হবে এবং দাঁত সাদা হবে। খনিজ সমৃদ্ধ কলার খোসা দাঁতকে ঝকঝকে সাদা করতে পারে।
* ডায়রিয়া হলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এ সময় কলা খেলে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব দূর হবে এবং হৃৎপিণ্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না।
* কলাতে ফ্যাটি অ্যাসিড চেইন রয়েছে যা ত্বকের কোষগুলির জন্য ভাল এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই ফ্যাটি অ্যাসিড চেইন পুষ্টির শোষণেও সাহায্য করে।
* কলা পুষ্টির জন্য ভালো। কলাতে ট্রিপটোফেন থাকে যা সেরোটোনিনে রূপান্তরিত হয় যা মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে।
* কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্ট্রোক প্রতিরোধেও কলা উপকারী।
* ধূমপান ত্যাগ করতে বেশি করে কলা খান। কারণ কলায় উপস্থিত ভিটামিন B6, B12, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম শরীর থেকে নিকোটিনের প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে কলার উপকারিতা শিরোনামে সংবাদ সংগ্রহ। কলার উপকারিতা শীর্ষক নিবন্ধটি বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

কোন কলা বেশি উপকারী

আমরা প্রায়ই কলা দেখে আমাদের নাক কুঁচকে ফেলি, কিন্তু যদি আমরা প্রতিদিন অন্তত একটি কলা খাওয়ার উপকারিতা জানি, তবে এটা বলা নিরাপদ যে অনেক স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষ নাক ঝাড়ালেও কলা খাবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন কলার উপকারিতা বেশি কাঁচা না পাকা

পাকা কলার বৈশিষ্ট্য:

১. এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ
২. এতে প্রাকৃতিক শর্করা যেমন ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ এবং সুক্রোজ থাকে
৩. এটি সহজে হজমযোগ্য
৪. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
৫. পাকা কলা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হৃদরোগের জন্যও উপকারী।

পাকা কলার কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি খাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। কলা যত বেশি পাকা, চিনির পরিমাণ তত বেশি।

কাঁচা কলা তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। এর বেশ কিছু পুষ্টিগুণ রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ-

১. এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।
২. এতে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
৩. এটি ডায়রিয়া রোগীদের জন্য খুবই কার্যকরী।
৪. কাঁচা কলায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি থাকে। এটি বিশেষ করে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ।

কাঁচা কলা খাওয়ার পর অনেকেরই কিছু সমস্যা হয়। এতে খুব কম পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। কেউ কেউ এটি খাওয়ার পর হজমের সমস্যায় ভোগেন। কারও কারও গ্যাসের সমস্যাও রয়েছে।
পরবর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url